যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোয়েন্দাকর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা
সংস্থা এনএসএ’র ফোনে আড়িপাতার গোপন তথ্য ফাঁস করে হইচই ফেলে দেয়া সাবেক
সিআইএ কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেন ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট চালু করেছেন।
অ্যাকাউন্ট চালু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাখ লাখ মানুষ তাকে ট্যুইটারে অনুসরণ করা শুরু করেছে।
বিবিসি বলছে, প্রথম ট্যুইটেই তিনি লিখেছেন, ‘আপনি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছেন এখন?’
নিজের প্রোফাইলে স্নোডেন লিখেছেন, তিনি “সরকারের কাজ করতেন। কিন্তু এখন জনগণের জন্য কাজ করেন।”
বর্তমানে রাশিয়ায় আশ্রয় নিয়ে আছেন স্নোডেন।
যুক্তরাষ্ট্রের
অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট নিল দেগ্রাসে টাইসনকে প্রত্যুত্তর দেওয়ার মাধ্যমে
দ্বিতীয় ট্যুইট করেন স্নোডেন। তার উদ্দেশে স্নোডেন কৌতুক করে লিখেন,“এখন
মঙ্গলে আমরা পানি পেয়ে গেছি! আপনি কি মনে করেন তারা সীমান্তে পাসপোর্ট
পরীক্ষা করে? একজন বন্ধুর জন্য আমার এই জানতে চাওয়া।”
দ্যস্নোডেন
অ্যাকাউন্টটি ট্যুইটার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত (ভেরিফাই) করেছে। স্নোডেন
অ্যাকাউন্ট চালু করার মাত্র নয়ঘণ্টার মধ্যেই এটি নিশ্চিত করা হয়।
ট্যুইটারে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্নোডেনের অনুসারীর (ফলোয়ার) সংখ্যা ৭ লাখ ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়।
চলতি
বছরের জুনে সাবেক অলিম্পিয়ান এবং রিয়েলিটি টিভির তারকা কেইটলিক জেনারের
দ্রুততম সময়ে ১০ লাখ অনুসারী জুটে যায়। মাত্র চার ঘণ্টায় তিনি মিলিয়ন
ফলোয়ারের অংকে পৌঁছান।
স্নোডেন ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয়
নিরাপত্তা সংস্থা এনএসএ'র গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা ফাঁস করে দেয়ার পর
যুক্তরাষ্ট্র সরকার তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়।
ওই বছরের মে মাসে তিনি পালিয়ে রাশিয়ায় যান এবং বর্তমানে সে দেশে সাময়িক আশ্রয়ে আছেন।
২০১৪
সালের জুলাইয়ে স্নোডেন রাশিয়ায় তিন বছরের জন্য থাকার অনুমতি পান। সেই
হিসাব অনুযায়ী ২০১৭ সালের ১ অগাস্ট পর্যন্ত তিনি রাশিয়ায় থাকতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের
সাবেক গোয়েন্দাকর্মী স্নোডেন দাবি করেন, এনএসএ তাদের গোপন নজরদারি
প্রকল্পের অধীনে বিশ্বব্যাপী নাগরিকদের টেলিফোন যোগাযোগ, ফেইসবুক, ইমেইলসহ
অন্যান্য ইন্টারনেট যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ করছিল।
স্নোডেনের ওই তথ্য ফাঁসের পর সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ গোয়েন্দাগিরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়।
মিত্রদেশের
সরকার প্রধানরাও গোপন নজরদারির অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন বলে খবর বেরুনোর পর ওই
তৎপরতার প্রতিবাদ জানান জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলসহ অন্যান্য
বিশ্বনেতারা।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্নোডেনের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা
ও সরকারি সম্পদ চুরির অভিযোগ এনেছে। এই অভিযোগে স্নোডেনের ৩০ বছরের
কারাদণ্ড হতে পারে।
স্নোডেন সিআইএ’র হয়ে জেনেভাতেও কাজ করেছেন।
কোন মন্তব্য নেই: