Related Pots
শিক্ষকদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কিছু নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন
গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বৃদ্ধির আন্দোলন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক
প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকবে কেন? আমার
এখানে হস্তক্ষেপ করার কিছু নেই। ৯১ শতাংশ বেতন বাড়িয়েছি। কেউ কি কখনো
কল্পনা করেছে, এই শিক্ষকদের জিজ্ঞাসা করেন। কখনো কেউ চিন্তা করেছে? আমি
মনে হয়, একটু বেশি দিয়ে ফেলেছি। কমিয়ে দেওয়াই বোধ হয় ভালো ছিল।’

প্রধানমন্ত্রী
বলেন, তাঁদের চাকরির বয়স ৬৫ বছর আর সরকারি চাকরিজীবীদের বয়স ৫৯ বছর। এগুলো
তো বিবেচনায় নিতে হবে। আজকে যেটা নিয়ে আলোচনা করছে, সেটা নিয়ে আমারই তো
প্রস্তাব ছিল। পিএসসির একটা আলাদা ইউনিট করে আমরা চাচ্ছিলাম... কিন্তু
ওনারা আন্দোলন করছেন। তার মানে যে বেতন বাড়িয়েছি, নিশ্চয় তাঁরা বর্ধিত বেতন
গ্রহণ করবেন না। যতক্ষণ পর্যন্ত সমাধান না হয়।’
শিক্ষকদের
উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওনারা সচিবদের সঙ্গে তুলনা করছেন। আচ্ছা
সচিবরা কী কী সুবিধা পাচ্ছেন আর ওনারা কী কী ভোগ করছেন তার একটা তুলনামূলক
চিত্র লেখেন না। কোনো সচিব কিন্তু অন্য কোথাও চাকরি করতে পারেন না। সেটা
জানেন ভালো করে। কিন্তু আমাদের শিক্ষকেরা পারেন। কোন ইউনিভার্সিটির কত
শিক্ষক কোন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে চাকরি করেন সে হিসাব কিন্তু আমার কাছে
আছে।’
শিক্ষকদের
উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কথা নাই বার্তা নাই ওনারা ছেলেমেয়েদের
পড়াশোনা বন্ধ করে দেবেন। কেন পড়াশোনা বন্ধ করবেন? শিক্ষকরা আন্দোলন করতে
যাবেন, কীসের জন্য? আর যদি করতে হয়, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করার রাইট তো
তাঁদের নাই। এই ছেলেমেয়েদের কী অবস্থা হবে! কতগুলি ক্লাস নষ্ট হচ্ছে।
ক্লাসগুলি তো তাদের ঠিকমতো নিতে হবে। আর আমরা যেটা নিজেরাই চিন্তা-ভাবনা
করছি, এটা নিয়ে তাদের আন্দোলন করার দরকার ছিল না। আন্দোলন যখন করছে, করতে
থাকুক। এখানে আমার হস্তক্ষেপের কিছু নেই।’
তিনি
বলেন, ‘তাঁরা আন্দোলন করছেন। বিষয়টি অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী দেখবেন।
কমিটি করে দেওয়া হয়েছে, কমিটি দেখবে। কিন্তু আমি ওনাদের অনুরোধ
করব—ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না।’
সরকারের অপর একটি সূত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আন্দোলন করে কোনও লাভ হবে না। শিক্ষকদের জন্য বেতন কাঠামোতে নতুন কিছূ করা হবে না।
Related Pots
অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফর স্থগিতের কথা জানান।
সফর স্থগিতের ঘটনায় ‘গভীর দুঃখ’ প্রকাশ করেছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী। তিনি বলেছেন, ‘পুরো ব্যাপারটাই হতাশার। গত ছয় দিন ধরে ব্যাপারটা নিয়ে আমরা অনেক কাজ করেছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে আপাতত এই সফর স্থগিত ঘোষণা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘ছয় দিন আগে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিষয়ক দপ্তর (ডিএফএটি) আমাদের বাংলাদেশে অস্ট্রেলীয়দের সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা জানায়। এর পর থেকেই আমরা ব্যাপারটা নিয়ে কাজ করেছি। পুরো বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করেছি। আমাদের তিনজন কর্মকর্তা বাংলাদেশে গিয়ে বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ তাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সবকিছু বিচার-বিবেচনা করে আমরা আপাতত এই সফর স্থগিত ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
সাদারল্যান্ড অবশ্য আশাবাদী ‘সুবিধাজনক সময়ে’ এই সফর আবার অনুষ্ঠিত হবে, ‘আমরা এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করব। আমরা একসঙ্গে বসেই সিদ্ধান্ত নেব আবার কবে এই ক্রিকেট সিরিজের জন্য সময় বের করা যায়।’
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী এই সফর স্থগিতের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট ও এ দেশের ক্রিকেট সমর্থকদের প্রতি নিজেদের সহানুভূতির কথা জানান, ‘আমরা বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। কিন্তু আমাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এ ছাড়া আর আমাদের কিছুই করার ছিল না।
তিনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘তাদের সহযোগিতা ছিল অভূতপূর্ব।’
Related Pots
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া লন্ডনে বসে ‘দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’ করছেন অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, গুলশানে ইতালীয় নাগরিককে হত্যার সঙ্গে এর যোগসূত্র থাকতে পারে।
বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় তিনি বলেন,
“গুলশানে ইতালীয় নাগরিক হত্যা অত্যন্ত সুপরিকল্পিত বলে আমরা মনে
করি। অবশ্যই এটা খতিয়ে দেখতে হবে।
“লন্ডন বসে দেশের বিরুদ্ধে করে যাওয়া খালেদা জিয়ার ষড়যন্ত্র ও ইতালীয় নাগরিক হত্যার মধ্যে যোগসূত্র থাকতে পারে বলে আমি মনে করি।”
চিকিৎসা ও বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোরবানির ঈদ করতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর লন্ডনে যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় (২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলা) হুলিয়া নিয়ে গত সাত বছর ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন তারেক।
সোমবার সন্ধ্যায় গুলশান-২ নম্বরের ৯০ নম্বর সড়কে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এনজিও আইসিসিও কো-অপারেশনের কর্মকর্তা চেজারে তাভেল্লাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে বলে জঙ্গি হুমকি পর্যবেক্ষণকারী একটি গ্রুপ জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশে ওই জঙ্গি গোষ্ঠীর তৎপরতার কথা নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দলীয় সভায় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন থেকে দেশে ফেরার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনায় লাখো মানুষের ঢল নামানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ। আগামী ৩ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, “লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামিয়ে বাংলার মানুষকে দেখিয়ে দিতে চাই, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র টিকবে না। কোনো প্রকার দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটাতে পারবে না।”
ওই সংবর্ধনায় রং-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, ব্যান্ড পার্টি নিয়ে আসার জন্য নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান কুষ্টিয়া থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হানিফ।
‘চ্যাম্পিয়ন অফ দ্যা আর্থ’ ও ‘আইটিইউ’ পুরস্কার পাওয়ায় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন শেষে দেশে ফেরার দিন বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত সড়কের দুইপাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ।
যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশে সন্তোষ জানিয়ে হানিফ বলেন, “এই রায়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে। এতে কিছুটা হলেও জাতি কলঙ্কমুক্ত হবে।”
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজের সভাপতিত্বে সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
“লন্ডন বসে দেশের বিরুদ্ধে করে যাওয়া খালেদা জিয়ার ষড়যন্ত্র ও ইতালীয় নাগরিক হত্যার মধ্যে যোগসূত্র থাকতে পারে বলে আমি মনে করি।”
চিকিৎসা ও বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোরবানির ঈদ করতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর লন্ডনে যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় (২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলা) হুলিয়া নিয়ে গত সাত বছর ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন তারেক।
সোমবার সন্ধ্যায় গুলশান-২ নম্বরের ৯০ নম্বর সড়কে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এনজিও আইসিসিও কো-অপারেশনের কর্মকর্তা চেজারে তাভেল্লাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে বলে জঙ্গি হুমকি পর্যবেক্ষণকারী একটি গ্রুপ জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশে ওই জঙ্গি গোষ্ঠীর তৎপরতার কথা নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দলীয় সভায় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন থেকে দেশে ফেরার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনায় লাখো মানুষের ঢল নামানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ। আগামী ৩ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, “লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামিয়ে বাংলার মানুষকে দেখিয়ে দিতে চাই, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র টিকবে না। কোনো প্রকার দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটাতে পারবে না।”
ওই সংবর্ধনায় রং-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, ব্যান্ড পার্টি নিয়ে আসার জন্য নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান কুষ্টিয়া থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হানিফ।
‘চ্যাম্পিয়ন অফ দ্যা আর্থ’ ও ‘আইটিইউ’ পুরস্কার পাওয়ায় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন শেষে দেশে ফেরার দিন বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত সড়কের দুইপাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ।
যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশে সন্তোষ জানিয়ে হানিফ বলেন, “এই রায়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে। এতে কিছুটা হলেও জাতি কলঙ্কমুক্ত হবে।”
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজের সভাপতিত্বে সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
Related Pots
সাম্প্রদায়িক জুজুর ভয় দেখিয়ে’ সরকার নিজেই তার শিকারে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা আবদুল মঈন খান।
মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় ইতালীয়কে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “সাম্প্রদায়িক জুজুর ভয় দেখিয়ে এদেশে কেউ পার পাবে না। আমরা জানি, পশ্চিমা বিশ্বে এই জুজুর ভয় দেখিয়ে এই সরকার হয়তো অনেক কিছু লুফে নেওয়ার চেষ্টা করছে। হয়তো সাময়িকভাবে তারা লাভবান হতেও পারে।
“কিন্তু তারা যে সেটা পারবে না, জুজুর শিকার নিজেরাই হবে- তার প্রমাণ ঘটে গেছে গতকাল সন্ধ্যায়।”
বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাকে ‘ক্ষয়িষ্ণু’ অভিহিত করে মঈন বলেন, “একজন সম্পূর্ণ নির্দোষ ব্যক্তি যিনি এদেশের নাগরিকও নন, এ দেশের কোনো ভালো-মন্দের সঙ্গে জড়িত না হয়েও একমাত্র এই দেশের ক্ষয়িষ্ণু সমাজ ব্যবস্থার শিকার হয়ে গতকাল তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।”
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলশান-২ এর ৯০ নম্বর সড়কে ইতালির নাগরিক চেজারে তাভেল্লাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি আইসিসিও কো-অপারেশন নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রুফ (প্রফিটেবল অপরচ্যুনিটিজ ফর ফুড সিকিউরিটি) কর্মসূচির প্রকল্প ব্যবস্থাপক ছিলেন।
ওই দিন রাতে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জঙ্গি হুমকি পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’ জানিয়েছে।
তবে আইএসের এই দাবির সত্যতা যাচাই হয়নি বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মঈন বলেন, “আজ সরকার পশ্চিমা বিশ্বের কাছে বার বার জুজুর ভয় দেখিয়ে মৌলবাদের ধোঁয়া তুলে যে খাল সৃষ্টি করেছে, সেই খালের ক্ষত শরীরে আজকের সরকার নিজেরাই পড়েছে এবং সেটাই গতকাল প্রমাণ হয়েছে।”
Related Pots
ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক চেজারে তাভেল্লা হত্যাকাণ্ড ও কয়েকটি দেশের দূতাবাসের সতর্কতা জারির পর বিএনপির এক নেতার বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই নেতার ‘সংশ্লিষ্টতা’ রয়েছে কি না- সে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশে ফিরে তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে সফররত শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। তাভেল্লা হত্যাকাণ্ড, জঙ্গিবাদের শঙ্কা, দেশের রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।জঙ্গি হামলার শঙ্কায় অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের সফর নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে ইতালির নাগরিক চেজারে তাভেল্লাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে তাদের নাগরিকদের চলাচলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়।
এই হত্যার প্রসঙ্গ টেনে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা আবদুল মঈন খান বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক জুজুর ভয় দেখিয়ে’ সরকার নিজেই এখন তার শিকারে পরিণত হয়েছে।
তাভেল্লা হত্যাকাণ্ড নিয়ে সাংবদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা অবাক হয়ে দেখলাম, বিভিন্ন দূতাবাস থেকে রেড অ্যালার্ট জারির পরই বিএনপির এক নেতা জোর গলায় কথা বলছেন।
“এখন তো সন্দেহ হয় যে, উনাকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত, ওই ঘটনার সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা। আমি দেশে ফিরে সে ব্যবস্থাও করব।”
বিএনপি-জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেকে ‘অস্থিতিশীল’ করতে চায়, তারাই এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে।
“দেশে একটি রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী মানুষ পুড়িয়ে মারে। মানুষ হত্যা করে দেশে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়- এমন কিছু লোক তো বাংলাদেশে রয়েছে। তারা তো চাইবেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে। সেই শ্রেণির লোকদেরই কর্মকাণ্ড এগুলো।”
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা জনজীবনে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছি। তবে কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। তেমন ঘটনা এই আমেরিকাতেও ঘটছে।”
বছরের শুরুতে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের মধ্যে পেট্রোল বোমা হামলাসহ সহিংসতায় জড়িতদের বিচার ‘অবশ্যই করা হবে’ বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশে আদৌ কোনো বিরোধী দল আছে কিনা- এমন প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, “সংসদীয় রীতি অনুযায়ী যারা জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে বসছেন- তারাই সত্যিকারের বিরোধী দল। তবে আমাদের দেশে আরেকটি দল আছে, যারা নির্বাচনে যায়নি। নির্বাচনের পথ ছেড়ে দিয়ে যারা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও করেছে তারা রাজনৈতিক দল হতে পারে না। তারা জঙ্গি দল।”
২০১৯ সালের আগে নির্বাচনের সম্ভাবনা আছে কি না- এ প্রশ্নে সরকারপ্রধান বলেন, “আগাম নির্বাচন কেন? আমরা যে উন্নয়ন করছি এটি পছন্দ হচ্ছে না? হ্যাঁ, যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন পছন্দ করবে না তারাই আগাম নির্বাচনের জন্যে চিৎকার করবে।”
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমের সঞ্চালনায় এ প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং রাষ্ট্রদূত এ কে এ মোমেন।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী এবং মশিউর রহমান, জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আব্দুস সোবহান গোলাপ, এফবিসিসিআই সভাপতি মতলুব আহমদ, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
Related Pots
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।
শাহ এ এম এস কিবরিয়া (ফাইল ছবি)
বুধবার সিলেট বিভাগীয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে এই মামলার
বাদী হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ
সম্পাদক আব্দুল মজিদ খানের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মকবুল আহসান সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করেন বলে জানান ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি কিশোর কুমার কর।
তিনি বলেন, আলোচিত এ মামলায় ১৭১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। আগামী ২১ ও ২২ অক্টোবর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সিলেটের বরখাস্ত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৩২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
কিশোর কুমার কর জানান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ গ্রেপ্তার ১৪ জনের মধ্যে ১৩ আসামি এবং জামিনে থাকা আটজনের সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
অপর গ্রেপ্তার আসামি সিলেটের বরখাস্ত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত করা যায়নি।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ পাঁচজন নিহত হন। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অর্থমন্ত্রী ছিলেন কিবরিয়া।
হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান ওই রাতেই হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন।
তিন দফা তদস্তের পর এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সিলেট সিটির বরখাস্ত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌর মেয়র জি কে গউছ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনের নাম যোগ করে মোট ৩২ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন।
হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাবুল্লাহ মামলাটি বিচারের জন্য গত ১১ জুন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেন।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মকবুল আহসান সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করেন বলে জানান ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি কিশোর কুমার কর।
তিনি বলেন, আলোচিত এ মামলায় ১৭১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। আগামী ২১ ও ২২ অক্টোবর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সিলেটের বরখাস্ত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৩২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
কিশোর কুমার কর জানান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ গ্রেপ্তার ১৪ জনের মধ্যে ১৩ আসামি এবং জামিনে থাকা আটজনের সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
অপর গ্রেপ্তার আসামি সিলেটের বরখাস্ত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত করা যায়নি।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ পাঁচজন নিহত হন। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অর্থমন্ত্রী ছিলেন কিবরিয়া।
হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান ওই রাতেই হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন।
তিন দফা তদস্তের পর এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সিলেট সিটির বরখাস্ত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌর মেয়র জি কে গউছ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনের নাম যোগ করে মোট ৩২ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন।
হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাবুল্লাহ মামলাটি বিচারের জন্য গত ১১ জুন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেন।