
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন নিয়ে বিশ্ব নেতাদের শীর্ষ বৈঠক শেষে বৈঠকে
চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা
(সামনে, মাঝে) ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ (সামনে, ডানে)
বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। ছবি: রয়টার্স
সোমবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন নিয়ে
বিশ্ব নেতাদের শীর্ষ বৈঠকে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
নতুন কোনো অভিযানের প্রয়োজনে দ্রুততম
সময়ের মধ্যে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আকার ও
সামর্থ্য বৃদ্ধির বিষয়টি বৈঠকে আলোচিত হয়।
এ বিষয়ে ওবামা বলেন, “প্রতিটি নতুন অভিযানকে আগেরটির চেয়ে আরো সুসংগঠিত ও কার্যকরী করা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।”
সেনা
পাঠানোর পাশাপাশি রাস্তার মধ্যে পেতে রাখা বোমা নিষ্ক্রিয় করা ও
প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ, হেলিকপ্টার এবং মেডিকেল ইউনিট পাঠানোর
প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দেশগুলো।
জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের
রাষ্ট্রদূত সামান্থা পাওয়ার জানিয়েছেন, ৫০টিরও বেশি দেশ নতুন আরো ৪০ হাজার
সেনা ও পুলিশের পাশপাশি ৪০টি হেলিকপ্টার, ১৫টি সামরিক প্রকৌশলী কোম্পানি ও
১০টি ফিল্ড হাসপাতাল পাঠানোরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
দেশগুলোর মধ্যে
অন্যতম বৃহৎ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ‘স্থায়ী
শান্তিরক্ষাকারী পুলিশ স্কোয়াড এবং শান্তিরক্ষাকারী বাহিনীর জন্য আট হাজার
সেনার অতিরিক্ত একটি বাহিনী প্রস্তুত রাখার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
১৬টি
দেশে চলমান শান্তিরক্ষা মিশনের পাশপাশি অতিরিক্ত শান্তিরক্ষীদের নিয়ে
জাতিসংঘ আরো বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তিরক্ষার নতুন মিশন শুরু করতে পারবে বলে
জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটের
তথ্যানুযায়ী, শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েন ১ লাখ ৬ হাজার ৫০০ শান্তিরক্ষীর
মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৮২ জন। এদের মধ্যে ৩৪ জন সেনা, ৪২ জন পুলিশ ও
ছয়জন সামরিক উপদেষ্টা। কিন্তু ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বাজেটের শান্তিরক্ষা
মিশনের ২৮ শতাংশ খরচ বহন করে দেশটি।
মিশনে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের
সামরিক উপদেষ্টাদের সংখ্যা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওবামা বলেছেন,
যুক্তরাষ্ট্র শান্তিরক্ষা বাহিনীকে আকাশ ও সাগর পথে উদ্ধার ও প্রশিক্ষণ
দেওয়াসহ লজিস্টিক সমর্থন বাড়াবে।
“যখন জরুরিভাবে প্রয়োজন হবে আমরা
এককভাবেই সহায়তা করতে এগিয়ে যাব। এছাড়া নতুন মিশনগুলোর জন্য বিমানক্ষেত্র ও
ঘাঁটি তৈরি করার মতো প্রকৌশলগত কাজগুলোর দায়িত্ব আমরা পালন করব,” বলেন
তিনি।
সোমবারের এ বৈঠকে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ তাদের সেনা সংখ্যা
বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন
সোমালিয়ায় মোতায়েন জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়ন শান্তিরক্ষী বাহিনীতে ৭০ জন
সেনা ও বিশেষজ্ঞ এবং দক্ষিণ সুদানের জাতিসংঘ মিশনে ৩০০ সেনা পাঠানোর
প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে যে পাঁচটি দেশ
সবচেয়ে বেশি সেনা ও পুলিশ পাঠিয়ে ভূমিকা রাখছে সেগুলো হল- বাংলাদেশ,
ইথিওপিয়া, ভারত, পাকিস্তান এবং রুয়ান্ডা। বৈঠকে এ দেশগুলোও শান্তিরক্ষা
মিশনে আরো বেশি সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই: